শহর আজ পাচ্ছে নতুন মেট্রো স্টেশন, পরিষেবা আগামিকাল থেকে

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : সুদীর্ঘ অপেক্ষা শেষে এবার দ্বার খুলতে চলেছে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রেলের প্রথম মাটির নীচের স্টেশন ফুলবাগানের। আজ দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল এই স্টেশনের উদ্বোধন করবেন রেলমন্ত্রী পীযুষ গয়াল। থাকতে পারেন কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ও। তবে এদিন উদ্বোধন হলেও তা আজই যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে না। আগামিকাল অর্থাৎ সোমবার থেকে এই স্টেশনে মিলবে পরিষেবা। যাত্রীরা এই স্টেশন থেকেই ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সুবিধা পাবেন। তবে এবারেও এই স্টেশন উদ্বোধনে রেলমন্ত্রক তথা কেন্দ্র সরকার ব্রাত্যই রেখেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে। তা নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়ে গিয়েছে শহরে।

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রেলের প্রথম মাটির নীচে স্টেশন হচ্ছে এই ফুলবাগান স্টেশন। এর আগে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত যে স্টেশনগুলি চালু হয়েছে সবকটিই মাটির ওপরে। সেই দিক দিয়ে দেখতে গেলে দীর্ঘ ২৫ বছর বাদে কলকাতা আবার একটি ভূ-গর্ভস্থ মেট্রো স্টেশন পেল। এর আগে শহরের বুকে শেষ ভূ-গর্ভস্থ মেট্রো রেল স্টেশন যা চালু হয় তা ছিল মহাত্মা গান্ধি রোড স্টেশনটি। ১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেটি চালু হয়। এরপর শহরের বুকে আরও মেট্রো স্টেশন হয়েছে কিন্তু এর সবকটিই মাটির ওপরে। সেই হিসাবে শহরের বুকে মহাত্মা গান্ধি রোড স্টেশনের পরে এই ফুলবাগান মেট্রো স্টেশনই হচ্ছে নবীনতম ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশন। তবে এই মেট্রো স্টেশন কিবা প্রযুক্তি কিবা সাজসজ্জায় একদম ঝাঁ চকচকে যা এর আগে শহরবাসী কখনও দেখেননি বলেই দাবি ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো রেলের কর্তাদের। এই স্টেশনে ঢোকার জন্য থাকছে ৪টি গেট। থাকছে এসক্লেটর থেকে সিঁড়ি। এমনকি কলকাতার বুকে এই প্রথম কোনও মেট্রো স্টেশন চালু হচ্ছে যেখানে প্ল্যাটফর্মে থাকছে স্লাইডিং ডোর যা শুধুমাত্র ট্রেন এসে থামলে তবেই খুলবে আর ট্রেন ছাড়ার আগেই তা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে লাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করার ঘটনা এখন অনেকটাই ঠেকানো যাবে।

এটাও জানা গিয়েছে যে আগামিকাল সকাল ৮টা থেকে যাত্রীদের জন্য এই স্টেশন থেকে পরিষেবা চালু করে দেওয়া হবে। নতুন স্টেশন যোগ হওয়ার পরে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো পথের বর্তমান দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৫ কিলোমিটার। এত দিন সেক্টর ফাইভ থেকে সল্টলেক স্টেডিয়াম পর্যন্ত মেট্রোর সর্বোচ্চ ভাড়া ছিল ১০ টাকা। এ বার ফুলবাগান পর্যন্ত সেই সর্বোচ্চ ভাড়া হবে ২০ টাকা। এটাও মনে করা হচ্ছে যে এই স্টেশন চালু হয়ে গেলে কিছুটা হলেও বাড়বে যাত্রী। তবে আগামিকাল থেকেই কিন্তু ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রেলে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে না। যাত্রী সংখ্যা কতটা বাড়ছে বা কোন সময়ে বাড়ছে সেটা দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এদিনের স্টেশন উদ্বোধন ঘিরে বেশ রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে। কার্যত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রেলের উদ্বোধনের সময়ে যেভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা পশ্চিমবঙ্গ সরকার কাউকেই যেমন আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এবারে স্টেশন উদ্বোধনের ক্ষেত্রেও সেই একই পথে হেঁটেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। আর তার জেরেই শুরু হয়ে গিয়েছে তীব্র সমালোচনা। তবে কৌতুহল জাগিয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের নাম। কারন এদিনের অনুষ্ঠানে তাঁকে স্থানীয় বিধায়ক হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ও তিনি উপস্থিত থাকবেন বলেই জানা গিয়েছে। যদিও দলগত ভাবে তৃণমূলের কাছে বা রাজ্য সরকারের কাছে এই নিয়ে কোনও তথ্য নেই। অনেকেই মনে করছেন এই ঘটনা আদতে সাধনবাবুর বিজেপি যাত্রার লক্ষ্যণ। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের অন্দরেও শোনা যাচ্ছে সাধনবাবু দল ছাড়লে কলকাতা পুরনিগমের বিগত পুরবোর্ডের ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষকে সাধনবাবুর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হতে পারে

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons