রাতভর কাজের পর অবশেষে কলকাতা সহ বহু এলাকায় ফিরল বিদ্যুৎ পরিষেবা

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : আমফাব পরিবর্তি পরিস্থিতিতে বহাল দশা কলকাতা সহ দক্ষিনবঙ্গের বহু এলাকার। ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে বেশ কিছু এলাকায় ৪৮ ঘন্টা পরে বিদ্যুৎ পরিষেবা মিললেও ৭২ ঘণ্টা পরেও বহু এলাকা বিদ্যুৎহীন। গাছ পড়ে রাস্ত বন্ধ রয়েছে, ছিঁড়ে গিয়েছে বিদ্যুতের তার। বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছেনা। জলের জন্য হাহাকার পড়ে গিয়েছে সর্বত্র। শনিবার পর্যন্ত অবস্থার কোনরকম উন্নতি না হওয়ার ফলে প্রতিবাদ জানিয়ে পথ অবরোধে সামিল হয় বেহালা, গড়িয়া, যাদবপুর, বাঁশদ্রোণী, ইএম বাইপাস-সহ কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ তুলতে লাঠিচার্যও করতে দেখা যায় পুলিশকে। 

এবিষয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা করোনার থেকে বড় বিপর্যয়। অধৈর্য হবেন না। এইসময়ে কারও কথা শুনে বিক্ষোভ করবেন না প্লিজ। লকডাউনের জন্য লোক অনেক কম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে একটু সময় লাগবে।’ এরপরেই রবিবার রাষ্ট্র দফতরের তরফে একটি ট্যুইট করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ‘সিইএসসি সরকারকে জানিয়েছে, তারা যাদবপুর, সেলিমপুর, মুকুন্দপুর, সার্ভে পার্ক, পাটুলি, রিজেন্ট এস্টেট, এনএসসি বোস রোড, বেহালা চৌরাস্তা, জেমস লং সরণী, শীলপাড়া, লেকটাউন, যশোর রোড, নাগেরবাজার, রাসবিহারি কানেক্টর, বিবি চ্যাটার্জী স্ট্রিটে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে দিতে পেরেছে।’

স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে জানানো হয়েছে রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের কর্মীরা গোটা রাত কাজ করে অবশেষে গড়িয়া, বাঁশদ্রোণী, কেষ্টপুর, তেঘড়িয়া, বাগুইহাটি, সল্টলেক, নিউটাউন, বারাসাত, এগরা, তমলুক, কাঁথি, শান্তিপুর, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, গয়েশপুর ও কল্যাণীর মতো বেশ কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।

তবে এখনও বেশকিছু এলাকায় বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে সেখানকার সাধারন মানুষ বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। আমফানের জেরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এদিন গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন সিইএসসি-র ভাইস প্রেসিডেন্ট (ডিস্ট্রিবিউশন) অভিজিৎ ঘোষ। তিনি এদিন বলেন, ‘মঙ্গলবারের মধ্যে সমস্ত এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য আমরা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করছি। আমাদের অনুমানে কোনও ঘাটতি বা ফাঁক ছিল না। আসলে করোনা-লকডাউনে ফল্ট মেরামতির কাজ যে কর্মীরা করে থাকেন, তাঁরা অনেকেই যে যাঁর বাড়ি চলে গিয়েছেন। অনেকে আবার ট্রেনে, বাসে আসেন। লকডাউনের জন্য তাঁরা আসতে পারেননি। সব মিলিয়ে ৫০ শতাংশ কর্মীকে আমরা আনতে পেরেছি। কর্মী সমস্যার কারণেই ফল্ট সারাই না হওয়ায় সরবরাহ এখনও পর্যন্ত ১৫ শতাংশ জায়গায় স্বাভাবিক হয়নি।’ 

 

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons