বেলা গড়ালো, পুরানো ছবিও ফিরলো! নজরে লোকাল ট্রেন

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : দীর্ঘ সাড়ে সাত মাস পরে অবশেষে বুধবার ভোর রাত থেকে রাজ্যে আবার চাকা গড়ানো শুরু হল আমজনতার জন্য। লকডাইন ও আনলক পর্বে কিছু লোকাল ট্রেন অবশ্য আগে থেকেই চলছিল স্টাফ স্পেশ্যাল হিসাবে। মানে শুধুমাত্র রেলকর্মীদের জন্য। যদিও তাতে ভিড় জমাচ্ছিলেন পেটের তাগিদে কাজে বার হওয়া আমজনতা। তা নিয়ে ঝামেলাও কিছু কম হচ্ছিল না। এদিন থেকে অবশ্য সকলের জন্যই খুলে গেল লোকাল ট্রেনের দরজা। তবে একই সঙ্গে আশঙ্কাও ফিরেছে। সকালের দিকে যাও বা মাস্ক, সামাজিক দূরত্ব, মানার ছবি চোখে পড়েছে তা আবার উধাও হয়ে গিয়েছে বেলা গড়াতেই। কার্যত যত বেলা বেড়েছে হাওড়া ও শিয়ালদা স্টেশনে ততই আগেকার ছবিই ফিরেছে।

বুধবার ভোর রাত থেকে চালু হয়েছে লোকাল ট্রেন। ভোর ৩টে ৫মিনিটে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ক্যানিং এক নম্বর প্লাটফর্ম থেকে দীর্ঘ সাড়ে সাত মাস পর লোকাল ট্রেনের চাকা গড়ালো। সেই ট্রেনে ক্যানিং থেকে ১১৫ জন যাত্রী ওঠেন ট্রেনে। আম্ফানের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত সুন্দরবনবাসীরা এদিন ফের ট্রেনে উঠতে পেরে খুবই খুশি। কারন আবার তাঁদের কাছে খুলে গেল আয়ের দরজা যা বন্ধ হয়ে ছিল এই সাড়ে তিন মাস ধরে। এদিন কাকভোর থেকেই দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর ও পূর্ব বর্ধমান জেলার স্টেশনগুলিতে মানুষজনের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়। প্রায় সকলের মুখেই তখন মাস্ক চোখে পড়েছে। অনেকে ফেসশিল্ডও পড়েছিলেন। গ্রানের দিকে স্টেশনে স্টেশনে অবশ্য কাউকেই থামার্ল স্ক্যানিং বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি চোখে পড়েনি। ছিল না সে অর্থে পুলিশ বা জিআরপি ও আরপিএফেরাও। তবে হুগলি শিল্পাঞ্চল, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল, নদিয়ার শিল্পাঞ্চল, বারাসত-মধ্যমগ্রাম এলাকা, সোনারপুর-বারুইপুর এলাকা, উলুবেড়িয়া শিল্পাঞ্চলে স্টেশনে স্টেশনে পুলিশ, জিআরপি, আরপিএফ, সিভিক ভলেন্টিয়ার চোখে পড়েছে। চোখে পড়েছে থার্মাল স্ক্রিনিয়েরও।

যদিও বেলা গড়াতেই ছবিটা ক্রমশ বদলাতে শুরু করে। সকালের দিকে যাত্রী কম থাকায় স্টেশনে স্টেশনে বা চলন্ত ট্রেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বা আসন ছেড়ে বসার ঘটনা চোখে পড়লেও বেলা গড়াতেই তা উধাও হয়ে যায়। তা সে স্টেশন হোক কী চলন্ত ট্রেন। এমনকি যে সব স্টেশনে থার্মাল স্ক্রিমিং করা হচ্ছিল যাত্রীদের স্টেশনে ঢোকার আগে সেখানে সেখানে লম্বা লাইন পড়তেও দেখা গিয়েছে। তার জেরে অনেকেই ক্ষুব্ধ হন পর্যাপ্ত পরিমাণ থার্মাল স্ক্রানার বা তা করার মতো লোক না থাকায়। তবে বড় ধরনের ঝামেলা কোথাও কিছু হয়নি। কিন্তু ভিড়ের জেরে সামাজিক দূরত্ব যেমন কাউকে মানতে দেখা যায়নি তেমনি ট্রেনের ভিতরেও আসন ছেড়ে বসার প্রবণতাও দেখা যায়নি। বরঞ্চ সেই পুরানো ধাঁচেই দরজার সামনে ভিড় বা বসে যাওয়া এবং তিনজনের আসনে ৪জন বসে যাওয়ার ঘটনাও সর্বত্র চোখে পড়েছে।

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons