পুজোর রাতে চলতে পারে মেট্রো! তবে সফর শুধুমাত্র স্মার্টকার্ডে

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক :  কলকাতার পুজো মানেই রাত জেগে ঠাকুর দেখার আনন্দ। কারন বছরের আর পাঁচটা দিন রাতে ঘুমিয়ে কাটালেও পুজোর চার-পাঁচ দিন রাত জাগে কলকাতা। রাজ্যে যে কয়টি শহরে পুজোর সময়ে রাত জেগে ঠাকুর দেখার মজা রয়েছে তার মধ্যে কিন্তু প্রথমেই চলে আসে কলকাতার নাম। আর কলকাতার পুজো মানেই মেট্রোরেলেরও রাতজাগা সার্ভিস। দিনে ঘুমিয়ে দুপুর থেকে শুরু করে ভোররাত পর্যন্ত মেলে সেই পরিষেবা। পুজোর ভিড়, রাস্তার জ্যাম্প কাটিয়ে মুহুর্তের মধ্যে শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলে যাওয়া আর ঠাকুর দেখে ঠিক সময়ে আবার বাড়ি ফিরে আসার পিছনে মেট্রো রেলের ভূমিকা কিন্তু ভোলার নয়। কিন্তু এবারে কী হবে? পুজোর রাতে কী মেট্রো মিলবে? প্রশ্নটা বেশ কয়েকদিন ধরেই ঘুরছে। পুজো যত এগোচ্ছে ততই বাড়ছে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পালা। তো জানিয়ে রাখা ভাল সুখবর অপেক্ষা করছে কলকাতার পুজোপ্রেমীদের জন্য। পুজোর রাতে চলতে পারে কলকাতা মেট্রো রেল। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
 
কিছুদিন আগেই কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করে দেন যে এই বছরও পুজোর সময় রাত জেগে ঠাকুর দেখার সুবিধা মিলবে আর পাঁচতা বছরের মতোই। তৃতীয়া থেকে একাদশী পর্যন্ত রাতে এই ঠাকুর দেখার সুযোগ মিলবে। সেই মতো কলকাতা পুলিশকেও তিনি পুজোর এই ভিড় সামলাতে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন। এরপরেই প্রশ্ন উঠে যায় পুজোয় কী মেট্রো চলবে? কলকাতায় রাত জেগে ঠাকুর দেখার প্রবণতা কয়েক যুগের। মেট্রো রেল চালু হওয়ার পরে সেই নিশিযাপন আরও বেড়েছে বই কমেনি। আগে মেট্রো রেল শুধুমাত্র সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে রাত্রিকালীন পরিষেবা দিত। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরেই মহালায়ার পর থেকেই একের পর এক পুজো মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে উদ্বোধন হয়ে যাওয়ায় কার্যত তৃতীয়া রাত থেকেই কলকাতার রাস্তায় জনপ্লাবন শুরু হয়ে যায়। সেই ছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষও ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত রাত্রিকালীন পরিষেবা দিতে শুরু করেছে। কিন্তু এই বছর এই পরিষেবা তাঁরা দিতে পারবেন না বলেই জানিয়েছিলেন। কারন লোকাল ট্রেন না চলায় তাঁদের অনেক কর্মী আসতে পারছেন না।
 
কিন্তু এখন বিশ্বস্ত সূত্রে খবর মিলেছে রাজ্য সরকারের অনুরোধ গিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষের কাছে। তার জেরেই এবার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে পুওর রাতে মেট্রোর পরিষেবা দেওয়া নিয়ে। সেক্ষেত্রে যাত্রীদের সকলের স্মার্টকার্ড, স্মার্ট ফোন ও তাতে আরোগ্য সেতু অ্যাপ থাকতে হবে। কোনও টোকেন বা কাগজের টিকিট থাকবে না। বিকাল ৪টে থেকে ভোড় ৪টে অবধি এই পরিষেবা মিলতে পারে ষষ্ঠী থেকে নবমী। ট্রেন মিলবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অন্তর। তাই ওই চারদিন সকালে মেট্রো চলবে না। দশমীতে পরিষেবা নাও মিলতে পারে। এখন যেমন রবিবার মেট্রো বন্ধ থাকছে ঠিক তেমনি দশমীতে পরিষেবা বন্ধ থাকতে পারে। শেষ ট্রেন উভয় প্রান্ত থেকে রাত ৩টের সময় ছাড়বে। ভোর ৪টের মধ্যে সব পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এখনকাল মতো ই-পাস থাকবে কিনা তা এখনও ঠিক হয়নি। কার্যত গোটা বিষয়টি এখনও পর্যন্ত ভাবনাচিন্তার স্তরেই রয়েছে। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে আয় বাড়াতে এই বিষয়টি একদমই উড়িয়ে দেওয়াও হয়নি। তারপর নবান্নের অনুরোধও রয়েছে। তাই আপাতত কলকাতার পুজোপ্রেমীরা আশায় বুক বাঁধতেই পারেন।

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons