পদত্যাগ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের, বক্তব্যের মধ্যেই আবেগে চোখে জল

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : রাজ্যে ফের দলবদলের গুঞ্জনে হাওয়া লাগলো। শুভেন্দু অধিকারীর পর এবার রাজ্য মন্ত্রীসভা থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল নেতা ও বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বেশ কয়েকদিন ধরেই রাজীব বেসুরো ছিলেন।  বারংবার দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ফেসবুক পোস্টে এই ইস্তফার কথা লিখেছেন তিনি।

রাজভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। বলেন আজ তাঁর ‌যে কোনো পদে সফল ভাবে কাজ করা বা রাজনৈতিক জীবনে ‌যে রাস্তা তিনি পেরিয়ে এসেছেন তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে দেন। বলেন, আজ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ‌যা, তা সম্পূর্ণ মাননীয়ার জন্য।

এর সাথে তিনি আরও বলেন, আড়াই বছর আগেই ‌যখন আমাকে একেবারে সৌজন্য ব্যতিত ভাবে সেচ দফতর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। রাজীব বলেন, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী দফতর বদলের সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। তবে আমি তার থেকে সহকর্মী হিসেবে কিছুটা সৌজন্য আশা করেছিলাম, ‌যা আমি পাইনি। আমি এই ঘটনায় বেশ আঘাত পাই।  তখনই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে আমায় তখন নিরস্ত করেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। এরপরেও আমাকে ‌যে দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয় সেই দায়িত্ব আমি নিষ্ঠা ভরে পালন করেছি। তবে গত কয়েকমাস আমাকে দলের অভ্যন্তর থেকে এমন কিছু মন্তব্য শুনতে হচ্ছিল, ‌যে আমি অত্যন্ত ক্ষুন্ন হই। এই কারণেই ভগ্নহৃদয়ে আমার এই সিদ্ধান্ত।  

কয়েকদিন আগেই ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, দলে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছেনা তাকে। এমনকি টালিগঞ্জের একটি অরাজনৈতিক সভায় দলের বিরুদ্ধে রীতিমত তোপ দাগেন তিনি। বলেন, দলের বিভিন্ন সদস্যকে তার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীসভার পাঁচটা বৈঠকে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে জল্পনা তৈরি হচ্ছিল প্রথম থেকেই। শুক্রবার তাঁর পদতাগের ঘটনায় এই দল্পনাতেই নতুন করে হাওয়া লাগলো।

তবে তাঁর এই ক্ষোভের খবর ছিল তৃণমূলের কাছে। ইতিমধ্যেই দুবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে বৈঠক হয় তাঁদের। সূত্রের খবর মূলত হাওড়ায় দলরে কাজ ‌যোভাবে হচ্ছে তাই নিয়েই ক্ষুব্ধ তিনি।  তবে বারবার আলোচনার পরেও বোঝানো ‌যায়নি বিক্ষুব্ধ এই নেতাকে। প্রসঙ্গত কয়েকদিন আগেই হাওড়ার আরও এক মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্ল ইস্তফা দিয়েছেন।  

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons