‘কেন ইংল্যান্ডে ও আমেরিকায় চিঠি পাঠানো হয়নি’, প্রবাসী চিকিৎসকদের কটাক্ষ মহুয়ার

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : করোনা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে গোটা দেশ। নিজেদের রাজ্যগুলিকে কী উপায়ে করোনা মুক্ত করা যায়, তা নিয়েই চিন্তা-ভাবনা করছে রাজ্যের প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে এবার প্রবাসী বাঙালি চিকিৎসকদের আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এদিন তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্য়ে প্রশ্ন তোলেন, করোনা পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরার জন্য কেন আপনারা ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্যসচিব বা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দেননি? 

প্রসঙ্গত, বাংলায় করেনা পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত বিরক্তিকর’ বলে দাবি করেন প্রবাসী বাঙালি চিকিৎসকেরা। একইসাথে এবিষয়ে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে একটি খোলা চিঠিও পাঠান। চিঠিতে তাঁদের বক্তব্য, “গত দেড় সপ্তাহ ধরেই আমরা পশ্চিমবঙ্গের করোনা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছি। রয়টার্সের একটি রিপোর্ট বলছে, প্রতি মিলিয়নে এ রাজ্যে মাত্র ৩৩.৭ শতাংশ হারে পরীক্ষা হচ্ছে । প্রতি দিন এরাজ্যে যেখানে হাজার জনের পরীক্ষা সম্ভব সেখানে তা করাই হচ্ছেনা। এছাড়া মৃত্যুর ক্ষেত্রে সঠির পরিসংখ্যানও জানানো হচ্ছেনা। যদি এই পরিসংখ্যান ঠিক ভাবে রজ্যবাসীকে না দেওয়া হয় তাহলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ এই মহামারির ভয়াবহতা বুঝতে পারবেননা তেমনই এই মারণ ভাইরাস মোকাবিলায় সঠিক পথও অজানা থেকে যাবে সকলের কাছে।” 

একিসাথে চিঠিতে চিকিৎসকেরা মুখ্যয়মন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্য়ায়কে করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে দুটি পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা এবং দ্বিতীয়ত, নিখুঁতভাবে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্য়ে এই চিঠি পাঠানোর পরেই প্রবাসী বাঙালি চিকিৎসকদের একহাত নেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এদিন ট্যুইটে তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে লেখেন, “ওই প্রবাসী বাঙালিদের আমি প্রশ্ন করতে চাই, অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশ হয়ে ইংল্যান্ড ও আমেরিকা, যে দেশগুলিকে আপনারা নিজেরা সাগ্রহে সাদরে গ্রহণ করে নিয়েছেন— সেখানে করোনা মোকাবিলা পদ্ধতি বেশ খারাপ। সরকারের সংযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। পিপিই সরবরাহ করা হচ্ছে না, স্বাস্থ্যকর্মীরা চূড়ান্ত সঙ্কটে। সেই বাস্তবচিত্র তুলে ধরে কেন আপনারা ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্যসচিব বা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা স্টেট গভর্নরদের এমন চিঠি লেখেন না? উত্তরটা আমি জানি। এখানে হিরো হওয়া অনেক সোজা। তাই নয় কী?”

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons