কৃষ্ণাঙ্গ খুনের প্রতিবাদে জ্বলছে আমেরিকা, শেতাঙ্গদের বিক্ষোভে মুগ্ধ তসলিমা

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : কৃষাঙ্গ যুবক খুনের প্রতিবাদে ট্রেম্পের দেশে চলছে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ। চারিদেকে এখন মুখর হয়েছে  ‘আই কান্ট ব্রিদ’ আর ‘ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটার্স’ এই দুই স্লোগান। হোয়াইট হাউসের বাইরে কৃষাঙ্গ খুনের উপযুক্ত বিচার চেয়ে আমেরিকাবাসীরা বিক্ষোভ দেখানোর জেরে বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। করোনা ফলে আমেরিকায় মৃত্যুমিছিল চললেও বর্তমানে কাঁদানে গ্যাস, পুলিশ বাহিনী, এ যেন এক অচেনা আমেরিকাকে দেখছে বিশ্ববাসী। এবার আমেরিকার সেই ঘটনায় মুখ খুললেন বিখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

এদিন লেখিকা বলেন, “করোনা ভাইরাসের জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ আমেরিকার মানুষ। কিন্তু সেই মরণ ত্রাসকে উড়িয়ে দিয়ে হাজার হাজার মানুষ এখন রাস্তায় নেমেছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূর এককথায় উপেক্ষিত হয়েছে লকডাউন। ভাইরাসে মরতে হয় মরবে, কিন্তু জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার প্রতিবাদ করতেই হবে তাদের। গর্জে উঠতে হবে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে, অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে। পুলিশ যেভাবে কৃষাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে যেভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে, তাতে ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী নির্বিশেষে আমেরিকাবাসী আজ রুখে দাঁড়িয়েছে। কারন অন্যায়ের প্রতিবাদ করাটা জরুতু। যদি তা না করা হয় তহলে অন্যায়গুলোই খুব স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায়। তখন অন্যায়গুলোকে আর ‘অন্যায়’ বলে মনে হয় না।”

তবে প্রতিবাদের মধ্যে হিংসাত্মক আচরণ মানতে একেবারেই নারাজ তসলিমা। তাঁর কথায়, “জ্বালানো, পোড়ানো আর লুঠের ঘটনা বাদ দিলে আমেরিকার এই প্রতিবাদ অত্যন্ত জরুরী এবং প্রাসঙ্গিক। তবে সবাই কিন্তু প্রতিবাদের উদ্দেশে বের হননি। কেউ কেউ বেরিয়েছেন ভায়োলেন্স করতে, দোকানপাট লুঠ করতে। যে কোনও আন্দোলনেই এমন কিছু অসৎ লোক থাকে, যারা মিছিলে যায় না। যারা মূলত বেরয় দোকানপাট লুঠ করতে। আর তাদের এসব কর্মকাণ্ডকেই তুলে ধরে কেউ কেউ মুনাফা লোটে। এমন প্রতিবাদকে অন্যায় আখ্যা দেওয়ার চেষ্টায় উঠে-পড়ে লাগে।”

তবে লেখিকা এই প্রতিবাদের মধ্য়েও খুঁজে পেয়েছেন এক অনবদ্য মুগ্ধতা। তা হল কৃষাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড মৃত্যুর প্রতিবাদী মিছিলে শেতাঙ্গদের উপস্থিতি। অন্যায় রুখতে নিজের গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধেও আন্দোলনে নেমেছেন তাঁরা। তসলিমা নাসরিন বলেন, “শহরে শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কিংবা মিছিলে গত দু’দিনের যে চিত্রটি দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি, তা হল শেতাঙ্গদের উপস্থিতি। শুধু কৃষ্ণাঙ্গরা নয়, সাদা চামড়ার লোকেরাও প্রতিবাদ করছে। ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে করে রুখে দাঁড়িয়েছে। স্লোগান দিচ্ছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নেমেছে। কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ঘোচানোর জন্য করোনার ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে শেতাঙ্গরা আন্দোলন করছে, তাদের জন্যই এই পৃথিবীটা সুন্দর। ইউরোপ আর আমেরিকার সমাজে বর্ণবাদ আনার জন্য শেতাঙ্গরাই যেমন দায়ী, এর বিরুদ্ধে আইন জারি করা, সমাজ থেকে একে দূরে সরানোর আন্দোলনেও তারাই শামিল হয়েছে। সংখ্যালঘুদের একার আন্দোলনে তা কোনওদিনই ফলপ্রসূ হত না”

 

 

Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube