আমফানের জেরে এখনও বিপন্ন পরিষেবা, ভোডোফোন-এয়ারটেলকে সরাসরি আক্রমণ মমতার

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : করোনা আবহে আমফান এসে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে বাংলার বিভিন্ন এলাকাকে। দু’সপ্তাহ অতিক্রম করে যাওয়ার পরেও এখনও স্বাভাবিক ছন্দে ফেরেনি শহর কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা। শহরের বিভিন্ন জায়গায় এখনও নেই বিদ্যুৎ পরিষেবা। ইন্টারনেট পরিষেবার দশাও বেশ বেহাল। যার জেরে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। স্বাভাবিক পরিষেবা পেতে টাকা খরচ করলেও মিলছেনা ইন্টারনেট। এই পরিস্থিতিতে দুই টেলিকম সংস্থা তথা ভোডাফোন ও এয়ারটেলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। একইসাথে সিইএসসি’র বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। 

আমফানের জেরে গত ২০ মে কলকাতা-সহ হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগণা, পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন অঞ্চল বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। এতদিকে যেমন এই ঘূর্ণিঝড়ের জেরে বহু মানুষ গৃহহীন হন। অন্যদিকে ৮০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানী ঘটে। শহরতলির রাস্তায় থরে থরে পড়ে শয়ে শয়ে গাছ। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের তার ছিঁড়ে গিয়ে একেবারে বেহাল দশা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রশাসনের তরফে সবরকমের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমফান বিধ্বস্ত এলাকা ঘুরে দেখে রাজ্যের পরিস্থিতি সামল দিতে ১০০০ কোটি টাকার অর্থ সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রা নরেন্দ্র মোদী। এমনকি সেই টাকা ইতিমধ্যেই রাজ্যকে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। মুখ্যমন্ত্রীও প্রায় ৩০ লক্ষ ক্ষতিগ্রস্থদের অ্য়াকাউন্টে পাঠিয়েছেন টাকা। সরকার যেখানে রাজ্যের হাল ফেরাতে এতখানি তৎপরতার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন সেখানে বেসরকারি সংস্থাগুলি একেবারে তথৈবচ। কাটায় কাটায় দুটো সপ্তাহ কেটে যাওয়ার পরেও বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট পরিষেবা ছন্দে না ফেরায় বৃহস্পতিবার দুটি টেলিকম সংস্থাকে সরাসরি আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন নবান্ন থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,“সাধারণ মানুষ টাকা দিয়েও পরিষেবা পাচ্ছেন না। প্রচুর ভোডাফোন, এয়ারটেল গ্রাহক ফোন করে অভিযোগ জানাচ্ছেন। ব্যবসা করতে হলে ব্যবসার মতো করেই করুন। দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করতে হবে। আর কত সময় লাগবে?” সিইএসসি’র কাজেও যে তিনি খুশি নন, তাও এদিন আরও একবার মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্যুৎ পরিষেবা এখনও স্বাভাবিক ছন্দে না ফেরায় ব্রডব্যান্ড পরিষেবা পেতে একপ্রকার সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এই সমস্যা যাতে দ্রুত সমাধান করা যায় তাই এদিন নবান্ন থেকে সিইএসসি’কে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

 
Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons