অফিস টাইমে হাওড়া-শিয়ালদহ দিয়ে চলতে পারে ২০০ লোকাল ট্রেন

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : অফিস টাইমে যাত্রীদের চাপ বেশি। ওই সময়ে হাও়ড়া-শিয়ালদা মিলিয়ে মোট ২০০টি লোকাল ট্রেন প্রত্যেকদিন চালানো হতে পারে। অন্য সময়ে কটা ট্রেন চলতে পারে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে রেল। যাত্রীদের মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক ও মানতে হবে সামাজিক দূরত্ববিধিও। মঙ্গলবার নবান্ন পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের বৈঠকে এমনটাই প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে। রাজ্যে লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু নিয়ে রেল-রাজ্য বৈঠক রয়েছে বৃহস্পতিবার। তার আগেই ট্রেন চলাচলের প্রক্রিয়া স্থির করতে এ দিন উভয় পক্ষের বৈঠক হয়।

কবে থেকে, কীভাবে লোকাল ট্রেন চলবে তার স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর নির্ধারণে এ দিন রেল-রাজ্য বৈঠক হয়। জানা গিয়েছে, তাদের হাতে আরপিএফ সংখ্যা কত তা রেলের তরফে রাজ্যকে জানানো হয়েছে। এছাড়াও হাওড়া ও শিয়ালদহের কোন রুট দিয়ে রোজ কত যাত্রী কলকাতামুখী হন তারও গড় সংখ্যা জানানো হয়েছে। এই দু’টি বিবেচনা করেই নিউ নর্মালে লোকাল ট্রেন সংখ্যা চূড়ান্ত হবে। স্থির হবে বিভিন্ন রুটের কোন স্টেশনে ট্রেন দাঁড়াবে। জানা গিয়েছে, গ্যালপিং ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে।

গত মার্চে করোনা মহামারির জেরে লকডাউন শুরু হওয়া থেকে বন্ধ ছিল কলকাতা ও শহরতলির লোকাল ট্রেন পরিষেবা। কিন্তু সংক্রমণের ভয়ে নিউ নর্মালেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার ট্রেন চালাতে অনুমতি দেয়নি বলে জানায় রেল। যদিও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শহর ও শহরতলির মানুষের জীবিকার কথা মাথায় রেখে গত কয়েকমাস ধরেই অন্যান্য গণপরিবহন পরিষেবায় ছাড় দিয়েছে রাজ্য। তবে, লোকাল ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে যাত্রীদের। লোকাল ট্রেন চালুর দাবিতে গত কয়েক মাস ধরেই দক্ষিণবঙ্গের বিক্ষোভ হয়েছে। গত শনিবার হাওড়া স্টেশনে রেলের স্টাফ ট্রেনে নিত্য যাত্রীরা জোর করে উঠতে গেলে বাধা দেয় রেল পুলিশ। যাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ প্রবল আকার ধারণ করে।

এরপরই স্বাস্থ্যবিধি মেনে রেলকে সকাল ও বিকেলে নির্দিষ্ট কয়েকটি লোকাল ট্রেন চালুর আর্জি জানায় রাজ্য সরকার। রাজ্যের স্বারাষ্ট্র সচিবের তরবে পূর্ব রেলের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তাকে চিঠি দিয়ে লোকাল ট্রেন পরিষেবা শুরুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। নবান্নের এই আর্জিতে সাডা় দিয়ে গত সোমবার পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব রেলের শীর্ষ আঞ্চলিক আধিকারিকদের সঙ্গে মুখ্যসচিবের বৈঠক হয়।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে কীভাবে লোকাল ট্রেন চলবে নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। কবে থেকে, কী পদ্ধতিতে, কখন এবং ক’টি করে ট্রেন চালু হবে, তা চূড়ান্ত করতে আগামিকাল বৃহস্পতিবার ফের দু’পক্ষের বৈঠক হবে। রাজ্য চাইছে, অফিসের সময়ে ট্রেনের সংখ্যা বেশি থাকুক। তাতে যাত্রীদের বড় অংশের সুবিধা হবে। ভিড়ও এড়ানো যাবে। বৈঠক শেষে নবান্নে বৈঠকে রেল কর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে হাওড়া ও শিয়ালদহে লকডাউনের আগে যত সংখ্যক লোকাল ট্রেন চলত সেই সংখ্যার ১০-১৫ শতাংশ ট্রেন পরিষেবা শুরু করা হবে। কিছু দিন পরে পরিস্থিতি বুঝে তা ২৫ শতাংশে পৌঁছবে। একটি লোকাল ট্রেনের বগির যত সংখ্যক যাত্রী ধারণ ক্ষমতা তার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নিয়ে ছুটবে ট্রেন। তবে, লোকাল ট্রেন চালানোর সঙ্গে কোভিডের সুরক্ষাবিধিগুলি মেনে চলা বিশেষ জরুরি বলে জানিয়েছে সব পক্ষ।

এই বৈঠকেই রাজ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, শারীরিক দূরত্ববিধি, থার্মাল স্ক্রিনিং, জীবাণুনাশের ব্যবস্থা, মাস্ক পরার মতো কোভিড-বিধি মানার পাশাপাশি স্টেশনে ঢোকা-বেরোনোর নির্দিষ্ট পদ্ধতি স্থির করতে হবে। সে ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশ রেল পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করবে।

সোমবারের বৈঠকের পর মঙ্গলবার মঙ্গলবার নবান্ন থেকে জানা গিয়েছে, ট্রেন চালানোর প্রস্তুতি শুরু করতে রেলকে নোট পাঠিয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর। নোটে লোকাল ট্রেন চালানোর জন্য রেলকে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়।

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons