অক্টোবর থেকেই রাজ্যে বাধ্যতামূলক মিষ্টির এক্সপায়ারি ডেট

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : পুজোর মুখেই বড়সড় সিদ্ধান্তের আঁচ লাগতে চলেছে রাজ্যের মিষ্টি ব্যবাসায়ী ও মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে। দেশের ফুড সেফটি কমিশনার সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে আগামী অক্টোবর মাস থেকে মিষ্টিতে লিখে দিতে হবে তাঁর মেয়াদের সীমাও। মানে কতদিন পর্যন্ত তা ভালো থাকবে বা খাওয়া যেতে পারে। লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে ‘এক্সপায়ারি ডেট’ বা ‘বেস্ট বিফোর’ শব্দদুটির মধ্যে যে কোনও একটি। অনান্য রাজ্যে এই নির্দেশ নিয়ে সমস্যা না দেখা দিলেও এই রাজ্যে তা বড়সড় সমস্যা হয়ে দেখা দিতে চলেছ। কেননা বংলা শুধুমাত্র দেশের মধ্যে সব থেকে বড় মিষ্টি বিক্রেতা রাজ্যই নয়, দেশের সব থেকে বড় খুচরো মিষ্টির বিক্রেতাও। তবে গ্রামীণ এলাকা ছাড়া এই সিদ্ধান্তের জেরে বড় কোনও সমস্যা দেখা দেবে না বলেই মিষ্টি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

দেশের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা এফএসএসএআই নির্দেশ দিয়েছে যে ১ অক্টোবর থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘বেস্ট বিফোর’ এবং ‘এক্সপায়ারি ডেট’ লিখতে হবে সব মিষ্টির ক্ষেত্রে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে চিঠি পাঠিয়েছেন ফুড সেফটি কমিশনার। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে প্যাকেটজাত নয় এমন মিষ্টির ক্ষেত্রে ট্রে-তে লিখে রাখতে হবে ‘বেস্ট বিফোর’। প্যাকেটজাত মিষ্টিতে লিখতে হবে ‘এক্সপায়ারি ডেট’। উপাদানের উপর নির্ভর করে প্রতিটি মিষ্টির ‘বেস্ট বিফোর’ নির্ধারণ করা হবে। রসগোল্লা, রসমালাইয়ের মতো মিষ্টি দু’দিনের বেশি রাখা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে। তার জেরে কিছুটা হলেও মিষ্টি বিক্রির ক্ষেত্রে এই রাজ্যে ধাক্কা আসবে বলে অনেক মিষ্টি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন। বিশেষত গ্রামীণ এলাকাতে এই সমস্যা প্রকট হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
 
বাংলা দেশের মধ্যে সব থেকে বড় মিষ্টি বিক্রেতা রাজ্য। সেই বিক্রি আবার দাঁড়িয়ে আছে খুচরো বিক্রির ওপরে। তা সে রসের মিষ্টি হোক বা নোনতা মিষ্টি কিংবা সন্দেশ। যে কেউ দোকানে গিয়ে একটি থেকে শুরু করে যত খুশি মিষ্টি নিতে পারেন। তার অর্ডার মতো মিষ্টি নিতে হয়। খালি অনুষ্ঠানবাড়ির জন্য মিষ্টি আগে থেকে অর্ডার দেওয়া হয় ও তা নানা রকমের ট্রেতে বেশ সুন্দর ভাবে সাজিয়ে বা হাঁড়িতে করে সরবরাহ করা হয়। সেই হিসাবে বাংলা দেশের মধ্যে সব থেকে বড় খুচরো মিষ্টির বিক্রেতাও। কিন্তু দেশের অনান্য রাজ্যে শুকনো মিষ্টির চল বেশি ও তা বিক্রি হয় প্যাকেট বন্দি হয়েই। খুচরো বিক্রির কোনও গল্পই সেখানে থাকে না। তাই সবাই সব সময় যে পেট ভরে বা প্রাণ ভরে মিষ্টি খেতে পান এমনও কিন্তু নয়। ওই সব প্যাকেটবন্দি মিষ্টির দাম বেশি থাকায় অনেক সময়েই তা নিম্নবিত্ত মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এই রাজ্যে কিন্তু সেই সমস্যা নেই। প্যাকেট বন্দি মিষ্টিতে সাধারন ‘বেস্ট বিফোর’ বা ‘এক্সপায়ারি ডেট’ লেখা থাকে। কিন্তু বাংলায় এই ধরনের রীতির প্রচলন নেই। এখানে মিষ্টি নিয়ে অভিযোগও খুব কম। তবুও এবার থেকে সব ধরনের মিষ্টির ক্ষেত্রেই ‘বেস্ট বিফোর’ বা ‘এক্সপায়ারি ডেট’ লেখা বাধ্যতামূলক হয়ে যাচ্ছে। তবে দই, মিহিদানা, সীতাভোগ, রসমালাই প্রভৃতি ক্ষেত্রে এবং জেলাস্তরে প্রসিদ্ধ বালুসাই, সরবরা, সরভাজার মতো মিষ্টির ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম ধাক্কা দিলেও দিতে পারে বলে অনেক মিষ্টি ব্যবসায়ী মনে করছেন। ইনেকে তো এটাও দাবি করছেন যে এই রাজ্যে প্যাকেটজাত মিষ্টি বিক্রির দরজা খুলে দিতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons